Wednesday, October 3, 2018

বিতর্ক


তখন গুলশাখালী হাই স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি, বারেক কাকু, আলম মামা তারা পড়েন ৮ম শ্রেণিতে। কী কারণে যেন সেদিন ক্লাস হচ্ছিল না। যার যা খুশি করছি। এর মধ্যেই বারেক কাকু এসে বললেন, সৈয়দ, তুমি আসো, আমাদের সাথে বিতর্ক করবা। আমরা তিনজন করে দুই দলে বিতর্ক করছি, কিন্তু এক দলে একজন কম আছে, তুমি আসো আমাদের দলে। কিন্তু বিতর্ক কী সেটাই তো জানি না,
কোনদিন শুনিও নাই এর আগে। তারপর তিনি বোঝাতে শুরু করলেন বিষয়টা, কোন একটা বিষয় নিয়ে দুই দলের মধ্যে তর্ক হবে, এক দল পক্ষে বলবে আরেক দল বিপক্ষে বলবে। যারা ভালো যুক্তি দিবে তারাই জয়ী হবে। সাহস দিয়ে বললেন, তুমি পারবা, কারণ তোমার বই পড়ার অভ্যাস আছে। আরো কী কী যেন বোঝালেন, যাই হোক আমিও হয়ে গেলাম বিতার্কিক!

গিয়ে দেখি বিতর্কের বিষয় “বিজ্ঞান আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?” আমি পড়লাম আশীর্বাদ প্রমাণ করার দলে। সম্ভবত বারেক কাকুই ছিলেন আমাদের দলনেতা। সেই বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষে আর কে কে ছিলেন এখন আর মনে নেই।

রাবেতা স্কুলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ি। লংগদু উপজেলা মিলনায়তনে বিভিন্ন স্কুলের মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের (ছাত্রী কেউ অংশ নেয়নি) অংশগ্রহণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দারের মতো আমার সর্দারিতে রাবেতা স্কুলের বিতর্ক দলকে পাঠানো হলো যুদ্ধের মাঠে। গিয়ে দেখলাম লংগদু সরকারি স্কুল এবং আমরাসহ তিনটি দল উপস্থিত হয়েছি। অপর দলটি সম্ভত ছিল মাইনীমুখ মাদ্রাসার।যাইহোক, কেমনে কেমনে জানি আমরাই জিতে গেলাম! এমন অভিজ্ঞতা হয়তো আমাদের এলাকার অনেকেরই আছে। কিন্তু সত্যিকারর্থে বিতার্কিক কি একজনও আছে? আমরা কি কাউকে সেভাবে গড়ে উঠার পরিবেশ করে দিতে পেরেছি?

কোনকালেই বক্তৃতা করতে পছন্দ করতাম না, এখনো করি না। তবে যুক্তিতর্ক করতে ভালো লাগে। আজকাল সেটাও কমিয়ে দিয়েছি। প্রত্যাশা করি, অন্যরাও যুক্তিতর্ক করুক, শিখুক, নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা শক্তিটাকে জানুক, সীমাবদ্ধতাগুলোকেও আবিষ্কার করুক। সেই প্রত্যাশা থেকেই গুলশাখালীতে একটি ডিবেটিং ক্লাব গড়ে তোলার কথা দিশারীতে উল্লেখ করেছিলাম।

১৮ আগস্ট ২০১৮ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রত্যাশা নিয়ে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস

আজ হঠাৎ করে কেন এসব বলছি? হুম, মাসখানেক আগে একজন আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড হয়েছে, তার প্রোফাইলে গিয়ে দেখি লেখা আছে, Member at Chittagong University Debating Society (CUDS). ব্যাপারটি সত্যিই ভালো লাগার। সেই ভালোলাগাই থেকেই বুঝতে পারছি, এতদিন যা আমরা পারিনি তা এখন হবে, খুব দ্রুতই হবে। কিন্তু কীভাবে হবে তা জানি না। তবে সম্ভাবনার রাস্তাগুলো হতে পারে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। দুটি মাধ্যমিক এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে আমাদের।এই তিনটি প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিতর্ক চর্চার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। আশা করি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সচেতন অভিভাবকবৃন্দ এগিয়ে আসবেন। ফরমারের যারা এলাকায় আছেন তারা কীভাবে এতে শরীক হতে পারেন সেটাও ভেবে দেখতে পারেন। আমাদের কিছু করার কি কোনো সুযোগ নেই?

নোট: গত ১৮ আগস্ট ২০১৮ বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রত্যাশা নিয়ে ফেসবুকে উপর্যুক্ত স্ট্যাটাস দেয়ার পর ২৪ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার সন্ধ্যায় চৌমুহনী বাজার, শাহাবুলের দোকানে  অনুষ্ঠিত ‘ফরমার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গুলশাখালী’র এক সভায়  প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এখন অপেক্ষায় আছি, বাস্তবায়নের।

No comments:

Post a Comment