![]() |
| প্রস্তাবিত গুলশাখালী উপজেলার মানচিত্র |
অর্থাৎ মানুষের দোরগোড়ায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সহজেই পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নতুন নতুন ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগ গঠন করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর ধারাবাহিকতায় লংগদু উপজেলাধীন কাপ্তাই লেকের পূর্বপাড়ে অবস্থিত ভাসান্যাদম, বগাচতর, গুলশাখালী এবং বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন আমতলী ইউনিয়নকে নিয়ে একটি উপজেলা গঠন করা এখন সময়ের দাবি। আমতলী বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন হলেও উপজেলা সদর হতে এর দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার, ফলে আমতলীবাসীকে সরকারি সুবিধা পেতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে আমতলীবাসী ইতিপূর্বে একাধিকবার আন্দোলন করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে বের হয়ে এসে লংগদু উপজেলার সাথে যুক্ত হতে। অন্যদিকে ভাসান্যাদম, বগাচতর, গুলশাখালী এবং আমতলী ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি। তাছাড়াও এই চারটি ইউনিয়ন রাজনগর বিজিবি জোনের আওতাধীন, ফলে তারা নিরাপত্তার একই ছাতার নিচে অবস্থান করছে দীর্ঘদিন থেকেই। এসব বিবেচনায় এই চারটি ইউনিয়নের অধিবাসীদের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিকসহ প্রশাসনিক সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নতুন একটি উপজেলা গঠনের বিকল্প নেই।
নতুন উপজেলার নামকরণ: সম্ভাব্য নতুন উপজেলার সদর এবং এর নাম আমরা প্রস্তাব করতে পারি ‘গুলশাখালী উপজেলা’। কারণ ইউনিয়নগুলোর মধ্যে গুলশাখালীর অবস্থান মধ্যস্থলে। চারটি ইউনিয়নের মধ্যে গুলশাখালীর ভূমি বেশি সমতল, ফলে এখান থেকে সর্বত্র চলাচল করা সুবিধাজনক। রাজনগর বিজিবি জোন সদরও এখানেই অবস্থিত। কাপ্তাইলেকের পূর্বপাড়ের একমাত্র কলেজটির অবস্থানও এখানে। তবে উপজেলা সদরের জন্য গুলশাখালী এবং বগাচতর ইউনিয়ন সীমান্তের কোনো একটি উপযুক্ত স্থানকে বেছে নেয়া যেতে পারে। চার ইউনিয়নবাসীকে উপজেলা সদরের সুবিধা সহজেই পেতে হলে এটাই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।
প্রস্তাবিত গুলশাখালী উপজেলার আয়তন ও জনসংখ্যা: আমতলী ইউনিয়নের আয়তন ১২.১৪৫ বর্গ কিলোমিটার ও লোকসংখ্যা ১০,২৪৪ জন (২০১৬ সালের হোল্ডিং অনুযায়ী); গুলশাখালী ইউনিয়নের আয়তন ৫০.৮৩ বর্গ কিলোমিটার ও লোকসংখ্যা ৯,৫৪০ জন (২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী); বগাচতর ইউনিয়নের আয়তন ৬২.১৬ বর্গ কিলোমিটার ও লোকসংখ্যা ১৭,০৪৩ জন (২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী) এবং ভাসান্যাদম ইউনিয়নের আয়তন ৭২.৫২ বর্গ কিলোমিটার ও লোকসংখ্যা ১৪,৮০০ জন (২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সম্ভাব্য গুলশাখালী উপজেলার আয়তন হবে ১৯৭.৬৬ বর্গ কিলোমিটার এবং মোট জনসংখ্যা ৫১৬২৭ জন (২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে এ সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে)।
উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ: উপর্যুক্ত চার ইউনিয়নবাসীর সার্বিক উন্নয়ন তরান্বিত করার জন্য নতুন উপজেলা গঠনের বিকল্প নেই। কিন্তু যে কেউ এটা বললেই অন্য সবাই মেনে নেবে তা ভাবার কোনো কারণ নেই। তাই এই নতুন উপজেলার দাবিটা যেন উল্লেখিত চার ইউনিয়নবাসীই তাদের নিজের দাবি বলে মনে করে, আগে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই রাজনগর বিজিবি জোন এগিয়ে আসতে পারে। রাজনগর বিজিবি জোনকে তাদের দায়িত্ব পালনের স্বার্থেই এই চার ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বার, হেডম্যান-কারবারি, শিক্ষকসহ সচেতন এবং নেতৃস্থানীয় মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের সাথে কথা বলার সুযোগও জোন কর্তৃপক্ষের জন্য অবারিত। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়েই নতুন উপজেলার দাবি চার ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে তাদের স্বার্থেই এ বিষয়ে একই প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে। চার ইউনিয়ন পরিষদ এবং নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ ও আন্তরিকতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে শুধু নেতৃবৃন্দের মধ্যেই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই দাবিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। সেক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগানো যেতে পারে। কারণ তরুণরাই নতুন কিছুকে সহজেই গ্রহণ করতে পারে বা নতুন কিছুকে গ্রহণ করতে জানে। ইউনিয়নগুলোর মধ্যকার সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করা যেতে পারে।
উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ: নতুন উপজেলার দাবিটি মোটামুটিভাবে মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যেই তাদের দাবির কথা বলতে শুরু করাটা স্বাভাবিক। আর তখনই তাদের দাবিটি যথাযথভাবে প্রশাসনের নজরে আনার জন্য যা যা করণীয় সেসব পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে চার ইউনিয়নবাসীর সমন্বয়ে একটি সামাজিক সংগঠনও করা যেতে পারে, যে সংগঠন নতুন উপজেলার দাবিটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সভা-সমাবেশ-মানববন্ধন-স্মারকলিপি-সংবাদ সম্মেলনসহ যা যা করণীয় তার সবই হতে পারে এই সংগঠনের ব্যানার থেকে।
উল্লেখিত দুটি ধাপ সফলভাবে পার হতে পারলে নতুন উপজেলা গঠনে আর কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। তারপরও কোনো সমস্যা থাকলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রশাসনের যথাস্থানে দাবিটির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারলে সফলতা আসবেই। তাই ভাসান্যাদম, বগাচতর, গুলশাখালী এবং আমতলী ইউনিয়নবাসীর ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে আপনার অবস্থান থেকে ‘গুলশাখালী উপজেলা গঠন প্রসঙ্গে প্রস্তাব’টি বিবেচনা করার বিনীত অনুরোধ রইল।
বিনীত নিবেদক
সৈয়দ ইবনে রহমত
(০৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ)
সাব-এডিটর, দৈনিক ইনকিলাব
২/১, আর কে মিশন রোড, ঢাকা।
এবং
নির্বাহী সম্পাদক, পাক্ষিক পার্বত্যনিউজ
সুলতান আহমেদ প্লাজা, ৩২, পুরানা পল্টন, ঢাকা।
স্থায়ী ঠিকানা: যুবলক্ষীপাড়া, গুলশাখালী, লংগদু, রাঙামাটি।
মোবাইল: ০১৮৬৫৩৩৫২৫২
ইমেইল: sayedibnrahmat@gmail.com



No comments:
Post a Comment